fbpx

গোবরডাঙার প্রসন্নময়ী কালী, বলির বদলে উৎসর্গ করা হয় মধু আর চিনি

গোবরডাঙার প্রসন্নময়ী কালী, বলির বদলে উৎসর্গ করা হয় মধু আর চিনি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: মা কালীর পুজো করলে সন্তান লাভ হবে। স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন গোবরডাঙার জমিদারের ফেলারাম মুখোপাধ্যায়। এ-কথা আঠারো শেষের দিকে।
জমিদার ফেলারাম মুখোপাধ্যায় ছিলেন নিঃসন্তান। সেইসময় তিনি হঠাৎই একদিন স্বপ্নাদেশ পেলেন মায়ের পুজো করলেই সন্তান লাভ হবে। এই স্বপ্নাদেশের পরই জমিদার ফেলারাম বাড়ির সামনের যমুনা নদীতে পেলেন একটি কোষ্ঠীপাথর। তিনি বুঝেছিলেন এসবই মায়ের খেলা। যাইহোক, তিনি দেরি না-করে দু’জন কারিগর আনলেন বেনারস থেকে। ওই কারিগরদের দিয়েই বাড়িতে মায়ের মূর্তি তৈরি করেন। তারপর শুরু করেন কালী মায়ের পুজো। আর এরপর জমিদার ফেলারাম মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রীর কোলজুড়ে এল এক পুত্র সন্তান। সময়টা ১৭৯৪। মা কালী তাঁর ওপর প্রসন্ন হওয়াই সন্তানের নাম হল কালীপ্রসন্ন। মাতৃভক্ত কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ১৮২২-এ প্রসন্নময়ী কালীর মন্দির নির্মাণ করেন।


রুপোর সিংহাসনে থাকা মায়ের সারা শরীর ভরা থাকে অলংকারে। জানা যায়, একদা পাঁঠা বলি হত। নয়ের দশকের শেষ দিকে তা বন্ধ হয়ে যায়। তার বদলে মাকে উৎসর্গ করা হয় সোয়া কিলো চিনি এবং আড়াইশো গ্রাম মধুর এক মিশ্রণ। পুজোর দিন ও রাতে মাকে নিবেদন করা হয় অন্নভোগ।
এলাকার মানুষের কাছে প্রসন্নময়ী মা খুবই জাগ্রত। মা থাকেন সদা প্রসন্ন। ভক্তের ঢল নামে মন্দিরে। অনেকেই মায়ের চরণে মানত করে ঢিল বাঁধেন। মা ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।

মন্দির ঘিরে রয়েছে কিংবদন্তি। একবার দীপান্বিতা কালীপুজোয় হয়েছে প্রচুর ভক্ত সমাগম। ভক্তদের দেওয়া হয় মায়ের ভোগ প্রসাদ। নিয়ম আছে মন্দির-অঙ্গনে কোনওরকম উচ্ছিষ্ট যেন পড়ে না-থাকে। একবার কোনও কারণে উচ্ছিষ্ট থেকে গেছিল। রাত্রে মা বাড়ির কাজের লোকটিকে বলেন, ওরে বাছা, এখনও তো উচ্ছিষ্ট পড়ে আছে। সত্বর পরিষ্কার কর। নইলে আমি তো বাইরে বেরুতে পারছি না।
কাজের লোকটি তড়িঘড়ি ঘুম থেকে উঠে দেখে সত্যি উচ্ছিষ্ট পড়ে আছে। পরিষ্কার করার সময় তার চোখ এড়িয়ে গেছিল। সাততাড়াতাড়ি পরিষ্কার করে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চাইছিল। ভোরবেলা পুরোহিতমশাই পুজো করতে এসে দৃশ্যটি দেখেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কি হয়েছে বাবা কাঁদছ কেন? কাজের লোকটির কাছে সব শুনে পুরোহিতমশাই বলেন, তুই না-কেঁদে আনন্দ কর। তুই মায়ের দেখা পেয়েছিস। মায়ের দেখা পেয়ে তুই ধন্য হয়েছিস।
পুরোহিতমশাইয়ের এবার আনন্দের অশ্রু বইতে থাকে সেই কাজের লোকটির।

আরও পড়ুন:   মেঘের রাজ্যে পাহাড় ঘেরা চা-বাগানে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline