fbpx

মন্দিরময় গ্রাম পাথরার ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছেন ইয়াসিন পাঠান

মন্দিরময় গ্রাম পাথরার ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছেন ইয়াসিন পাঠান

শ্যামল কর

বাংলার পুরনো মন্দির আর টেরাকোটার কাজ মানেই বাঁকুড়া। সেইসব টেরাকোটা মন্দিরের সৌন্দর্য দেখতে সবাই যান বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। কিন্তু কলকাতার আরও অনেকটাই কাছে মেদিনীপুর স্টেশন থেকে মাত্র ১৪ কিমি দূরে কাঁসাই নদীর ধারে পাথরা গ্রাম। পর্যটকদের কাছে যার পরিচিতি খুবই অল্প। সেই গ্রামের রাস্তার দু’ধারে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ৩৯টি মন্দির, একটি রাসমঞ্চ, দুর্গাদালান আর কয়েকটা ঠাকুরদালান। তার মধ্যে ৪০ ফুট উচ্চতার নবরত্ন মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজ অবাক করে দেওয়ার মতো! কাশী ছাড়া ভারতের আর কোথাও একসঙ্গে এতগুলো শিবমন্দির সম্ভবত আর নেই। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কয়েকটা মন্দিরের অবলুপ্তি ঘটেছে। ২০০৩ সালে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (ASI) এবং খড়গপুর আইআইটি যৌথভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯টি মন্দিরের সংরক্ষণের কাজ হয়েছে। বাকি স্থাপত্যগুলোর পুনর্নিমাণের চেষ্টা চলছে।


পাথরার মন্দিরের ইতিহাস যা জানা যায়, তা হল– তৎকালীন বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দি খাঁ, বিদ্যানন্দ ঘোষাল নামে এক তহশিলদারকে নিয়োগ করেছিলেন রত্নচক পরগনার খাজনা আদায়ের জন্য। এই বিদ্যানন্দই পরবর্তী কালে ধনশালী হয়ে এখানে প্রথম মন্দির নির্মাণ শুরু করেন।এরপর তাঁর বংশধরেরা আরও বেশ কয়েক বছর ধরে একের পর এক মন্দির, ঠাকুরদালান ইত্যাদি নির্মাণ করেন সতেরো ও আঠারো শতকে। গ্রামের নাম ‘পাথরা’ হওয়ার পিছনে রয়েছে লোকশ্রুতি, যে-কোনও কারণেই হোক, নবাব আলিবর্দি একসময় বিদ্যানন্দের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে দণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন বিদ্যানব্দকে হাতির পায়ের তলায় পিষে মারার জন্য।নির্দেশমতো বিদ্যানন্দের হাত-পা বেঁধে, শুইয়ে দিয়ে হাতিকে ছেড়ে দেওয়া হয় পদপিষ্ট করার জন্য। কিন্তু হাতিটি বিদ্যানন্দের গায়ের ওপর পা তুলে তা সরিয়ে নেয়। মাহুত বারে বারে চেষ্টা করলেও হাতিটি বারে বারেই পা তুলে আবার পিছু হটে এবং এভাবেই বিদ্যানন্দ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে নতুন জীবন পায়। সেই পা উৎরানো থেকেই জায়গার নাম হয়েছে পাথারা।


এই পাথরার কথা উল্লেখ করলেই, সঙ্গে সঙ্গে যে-নামটি অবশ্যই উচ্চারণ করতে হয়, তিনি হলেন পাশের গ্রামের এক সাধারণ মুসলিম কৃষক পরিবারের সন্তান ইয়াসিন পাঠান। যাঁর অদম্য লড়াই বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপত্যগুলোকে। ‘পাথরা পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ সমিতি’ গঠন করে দীর্ঘ কয়েক বছরের নিরলস নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলে ভারতের প্রত্নতত্ব বিভাগ পাথরার মন্দিরগুলোর দায়িত্ব হাতে নেয় ও রক্ষা করে। ‘মন্দিরময় পাথরার ইতিবৃত্ত’ নামে একটি ছোট বইও লিখেছেন,ইয়াসিন পাঠান।
বাঙ্গলার শিল্প, স্থাপত্য, ঐতিহ্যকে যাঁরা ভালবাসেন, আর ইয়াসিন পাঠানের সার্থক প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতে, স্মরণ করতে চান, তাঁরা একবার ঘুরে আসতে পারেন, অজানা মন্দিরময় গ্রাম পাথরায়।

আরও পড়ুন: একদিনে সংক্রমণ ৭০হাজার, আশা জোগাচ্ছে সুস্থতার সংখ্যা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline