fbpx

 ওঁরা শ্রমিক দেশের নানা নির্মাণ কাজে জড়িত

 ওঁরা শ্রমিক দেশের নানা নির্মাণ কাজে জড়িত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিযায়ী! আমাদের চেনা শব্দ। এর অর্থ কি? সংসদ অভিধান বলছে যাতায়াতকারী, ভ্রমণশীল, বসবাসের জন্য দেশে গমনশীল। কর্মের জন্য অন্যরাজ্যে শ্রমিকেরাও কি তাই? পরিযায়ী? এঁদের বেশিরভাগই নানাভাবে দেশের নির্মাণ কার্যে ব্যস্ত থাকেন। অর্থাৎ দেশের উন্নয়নের সঙ্গে এঁরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। লকডাউনে তাঁদের কথা মনে পড়ল না। তাঁরা কি করে দেশে ফিরবেন? দেশে না-ফিরলে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে? না, এঁদের কথা কারওরই মাথায় ছিল না সম্ভবত। ভিন রাজ্যের এইসব শ্রমিকেরা দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। তাঁদের কাছে না-ছিল অর্থ, না-ছিল খাবার। বাধ্য হয়ে নিজের শহরে বা গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁরা যখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন দেশে ট্রেন, বাস সব বন্ধ হয়ে গেছে লকডাউনের কারণে।
দেশ জুড়ে থাকা এইসব (পরিযায়ী) শ্রমিকেরা ঠিক করলেন দলবেঁধে হেঁটে হেঁটেই যে যাঁর বাড়ি বা মুলক ফিরবেন। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমনভাবেই রওনা দিলেন। এঁদের কারওরই বাড়ি দু’দশ কিলোমিটার দূরে নয়। সকলেই এসেছিলেন চার, পাঁচ, ছয়, সাতশো… কিলোমিটার দূর থেকে পেটের তাগিদে।
এঁরা সকলেই যে রাজমিস্ত্রী তা নয়। নানাবিধ কাজের সঙ্গে জড়িত। কেউ রঙের কাজ করতেন। অর্থাৎ বাড়ি রং তৈরির কাজ করতেন। কেউ রিকশা চালাতেন। নানারকম কাজ করতেন। যাইহোক, এঁরা প্রত্যেকেই বাড়ি ফিরতে চাইছিলেন। তাই কিলোমিটারের তোয়াক্কা না-করেই রওনা দিয়েছিলেন। এমনই কেউ কেউ বাড়ির টানে হাঁটতে হাঁটতে মাঝপথেই পড়ে মারা গেছেন। একটি বারো বছরের শিশুও মারা গেল এভাবেই। এটা তো ছিল তার খেলার বয়স। লঙ্কা খেতে কাজের নয়। তাছাড়া শিশুশ্রমিক রাখাটাও তো বোধহয় অপরাধের?
এক পরিবার নয়ডা থেকে তাঁদের দেশ ইলাহাবাদে যাচ্ছিলেন। রাত থাকতে থাকতেই রওনা দিয়েছিলেন। বউটির কোলে দেড় বছরের শিশু। ওঁদের সঙ্গে আরও অনেক শ্রমিক ছিলেন। তাঁরাও নিজ নিজ গ্রাম বা শহরের বাড়িতে ফেরার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে এক শ্রমিকের পায়ে হাওয়াই চটি। তিনি জানালেন তাঁর ভাল চটিটি চুরি করে হাওয়াই চটিটি রেখে গেছে। এই পরিবারটি নয়ডা থেকে পঞ্চাশ-ষাট কিমি চলে আসার পর সিদ্ধান্ত নিলেন না-যাবেন না, আবার নয়ডা ফিরবেন। কেননা, দেড় বছরের শিশুটি খিদের জ্বালায় তারস্বরে কান্না জুড়েছে। তাকে কিছু যে খেতে দেবে তারও উপায় নেই।
এমনই এক শ্রমিকের দল মহারাষ্ট্রের জালনা থেকে মধ্যপ্রদেশের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। তাঁরা পথ চিনতে ভুল হবে না বলে রেললাইন ধরে হাঁটা দিয়েছিলেন। এখন গরমও পড়েছে। ষাট কিলোমিটার হেঁটেওছিলেন। ক্লান্ত শরীর আর সঙ্গ দেয়নি। জালনা আর ঔরঙ্গাবাদের মাঝে কর্মাড এলাকায় হয়তো রেললাইনে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা জানতেন লকডাউন চলছে এখন আর ট্রেন আসবে না। নিশ্চিন্তে ঘুম পড়েছিলেন তাঁরা। কয়েকজন লাইন থেকে দূরত্ব রেখে শুয়েছিলেন। তাঁদের ডাকও ক্লান্ত ঘুমন্ত শ্রমিকদের কানে যায়নি। একটি মালগাড়ি তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিল। ঘুমোতে ঘুমোতে ১৬জন শ্রমিক চলে গেলেন ঘুমের দেশে। লকডাউনে এমন মর্মান্তিক এক ঘটনা সারা দেশের সচেতন মানুষদের ভাবিয়ে তুলেছে। ভাবিয়ে তুলেছে কার্টুনিস্ট সেন্টুকেও।

সঙ্গে সেন্টুর কার্টুন।

আরও পড়ুন:করোনাজয়ী ৬ জনকে ডিসান হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হল 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline