fbpx

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে গতকাল

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে গতকাল

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর (বাংলার ২৫ ভাদ্র) শুক্রবার কৃষ্ণনবম্যাদিকল্পারম্ভ বেলা ১২.১০ মিনিটে শেওড়াফুলি রাজবাড়ির শ্রীশ্রী সর্বমঙ্গলা মাতার মন্দিরে এ-বছরের দুর্গাপুজোর বোধনের ঘট বসল। করোনার কারণে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চণ্ডীপাঠ ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপুজো শুরুর ঘণ্টা বেজেছে। গতকাল থেকেই শুরু হয়ে গেল শেওড়াফুলি রাজবাড়ির এবছরের দুর্গাপুজো। শেওড়াফুলির রাজার আদি রাজবাড়ি ছিল পাটুলি নারায়ণপুরে। বর্ধমান জেলায় এই রাজবাড়ি এখন গঙ্গা গ্রাস করেছে। এঁদের ছিল পাঁচটি জেলায় জমিদারি। এই রাজবাড়ি লোকেরা বংশ পরম্পরায় ব্রাহ্মণদের সম্মান জানাতে কুণ্ঠা করতেন না। তাঁরা ছিলেন খুব প্রজাবৎসল। জানা গেল, প্রতিদিন সকালে গরিব পরিবার এবং ব্রাহ্মণদের তাঁরা ভূমি দান করতেন।
বংশ পরম্পরায় এভাবে চলতে চলতে রাজারাই ধনও ফুরায়। তাই হল। একটা সময় নিজেরাই নিঃস্ব হয়ে পড়লেন। রাজা সহস্রাক্ষ দত্তর সময় পাটুলির রাজবাড়ির কুলদেবী ছিলেন মা মহিষমর্দ্দিনী। এসব কথা কমবেশি ৬৫২ বছর আগের। কষ্টি পাথরের অপূর্ব বিগ্রহ মা মহিষমর্দিনীর। সেই বিগ্রহ আজও নিয়মিত পূজিত হচ্ছেন শেওড়াফুলিতে। রাজা মনোহর রায় ছিলেন খুব পুণ্যহৃদয়। তাঁর জমিদারির অন্তর্ভুক্ত বর্ধমান জেলার আঁটিসারা গ্রাম। পরে জায়গাটি চলে আসে হুগলি জেলায়। প্রজাদের সুবিধার্থে তিনি পুষ্করিণী খনন করতে লোক পাঠান। সেইসময় রাজা মনোহর রায় স্বপ্নে একাধিকবার দেখেন মা সর্বমঙ্গলা দেবীকে। মা তাঁকে জানান, ওই পুষ্করিণীর মাটির নীচে চাপা পড়ে আছেন তিনি। উদ্ধার করতে বলেন রাজা মনোহর রায়কে।
রাজা পরদিন থেকে আরও বেশি করে লোক পাঠান। পুষ্করিণী খোঁড়া চলছে তো চলছেই কিন্তু মা সর্বমঙ্গলার দেখা নেই। রাজা মনোহর রায় ক্রমশ বিচলিত হয়ে পড়ছেন। তিনি থেকে থেকেই লোক পাঠিয়ে খোঁজ করছিলেন কাজ কত দূর এগোল আর মায়ের দেখা মিলল কিনা। দিন কুড়ি পর এক মজুরের কোদালে উঠে আসে এক দেবীমূর্তি। তারপর মূর্তিটি পরিষ্কার করে দেখা অপূর্ব এক পিতলের দুর্গা মূর্তি। খবর পেলেন পাটুলির রাজা মনোহর রায়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। এর জন্যেই তিনি এত উদগ্রীব ছিলেন। রাজার হাতে এল সেই মূর্তি। রাজা মনোহর রায় রাজসভার সকলকে দেখালেন। সবাই দেখেশুনে বললেন, এটি অষ্টধাতুর দুর্গা বিগ্রহ মা সর্বমঙ্গলা। রাজা মনোহর রায় বাংলার ১১৪১-এর ১৫ জ্যৈষ্ঠ (ইংরাজির ১৭৩৪) পুণ্যদিনে শেওড়াফুলি রাজবাড়িতে পুণ্য দিনে নানান আচার-অনুষ্ঠান করে প্রতিষ্ঠা করেন মা সর্বমঙ্গলার বিগ্রহ।
সেইদিন থেকে মায়ের নিত্য পুজো, জন্মতিথি পালন এবং দুর্গাপুজো পালন করা হয়ে আসছে। এই বছর দুর্গাপুজোর ২৮৭ বছর। মায়ের নিত্য সেবা আগে লাগত মন মন আতপ চালের নৈবেদ্য, নানান ফল, মিষ্টি। বর্তমানে অর্থনৈতিক কারণে নৈবেদ্য হয় কয়েক কেজি চালের। কিন্তু পালন করা হয় পুজোর আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠা সহকারে। আড়ম্বর নয়, নিষ্ঠা ও প্রাচীন রীতিনীতি মেনে এই পুজো হয়ে আসছে। আগে রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোয় মোষ, ছাগ বলি হত। পরবর্তী কালে শেওড়াফুলি রাজবাড়ির বড় তরফের পুজোয় পশু বলি নিষিদ্ধ। এই বিধান দেন পণ্ডিতেরা। এর পিছনে আছে এক ইতিহাস। বর্তমানে রীতি-নিয়ম মেনে বলি হয় চালকুমড়ো। বহু ভক্তেরা আসেন মায়ের দর্শনে। মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য মায়ের উদ্দেশেপুজো নিবেদন করেন ভক্তেরা।

আরও পড়ুন:  মাতাজি আসেন ভালুকের রূপ ধরে, ভক্তদের হাতে প্রসাদ খেয়ে চলে যান

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline