fbpx

কান্দির দোহালিয়া বা দক্ষিণা কালী

কান্দির দোহালিয়া বা দক্ষিণা কালী

নিজস্ব প্রতিনিধি: সময় বল্লাল সেনের আমল। সেইকালে নদীপথে যাচ্ছিলেন এক মাতৃসাধক। তিনি মায়ের নামগান নিয়েই থাকতেন। নৌকা করে যাওয়ার সময় একটি জায়গা দেখে তাঁর খুব ভাল লাগে। জঙ্গল ঘেরা নির্জন জায়গা। মাঝিকে নৌকা ভেড়াতে বলে নেমে পড়েন সেখানে। ঘুরতে ঘুরতে বুঝলেন এই হচ্ছে সাধনার উপযুক্ত স্থান। তিনি দ্বিতীয়বার আর না-ভেবে থেকে গেলেন জঙ্গলের ভিতর একটি পছন্দমতো জায়গায়।
সাধনার মতো একটি জায়গা বার করে বসে পড়েন মায়ের সাধনায়। মা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য বহু চেষ্টা করেও সাধকের ধ্যান ভাঙাতে পারলেন না। তখন সেই মাতৃসাধককে বললেন, “তোর সাধনায় আমি খুব খুশি। তুই কি বর নিতে চাস।” মায়ের কথায় তিনি বলেন, “আমার কিছুই চাই না মা। আমি যেন মানুষের অন্ধত্ব দূর করতে পারি।” “তাই হবে বলে”, মা সাধককে স্বপ্নে বলেন, “দুধপুকুরে স্নান সেরে ওখানকার একটি বিশেষ গাছের শিকড় ধারণ করলেই অন্ধত্ব দূর হবে।”
ইতিমধ্যে মাতৃসাধকের ধ্যান ভাঙতেই তিনি দেখেছিলেন দক্ষিণা কালীর বাঘরূপের এক ব্রহ্মশিলা মূর্তি। তারপর ছোট্ট একটি ঘর বানিয়ে নিত্যপুজো শুরু করেন ওই মাতৃসাধক। প্রতি অমাবস্যায় করতেন মায়ের বিশেষ পুজো।
আবার শোনা যায়, ওই ব্রহ্মশিলা মূর্তি বেত বনের ভিতর আবির্ভূতা হতে দেখেছিলেন বনমালী সিংহ। সেখানেই তিনি মন্দির নির্মাণ করে মায়ের পুজো শুরু করেন। ইনিই ছিলেন সিংহ বংশের কুলদেবী। পরে পরিচিত হন দোহালিয়া কালী নামে। আবার অনেকে বলেন, বনমালী সিংহর পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে দোহালিয়ায় জমি দান করেছিলেন রাজা লক্ষ্মণসেন। তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠান করেন। তারপর একটি উঁচু বেদিতে প্রতিষ্ঠা করেন মায়ের ব্রহ্মশিলা। এই ব্রহ্মশিলা পূজিতা হচ্ছেন দোহালিয়া কালী বা দক্ষিণা কালী নামে। তবে বনমালী সিংহ নির্মিত মন্দির ভেঙে পড়লে ১৮৯৭-এ নতুন করে তৈরি করেন ভূপতেন্দ্রনারায়ণ রায়।
আর এক কিংবদন্তি আছে দোহালিয়া কালী মায়ের নামে। বহুকাল আগে এক রাখাল জঙ্গলে গরু চরাতে গিয়ে একটি গাছে দেখতে পান মায়ের মূর্তি। তারপর গ্রামবাসীদের ডেকে দেখান। গ্রামবাসীরা মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন। সেই থেকে পূজিত হচ্ছেন মা দোহালিয়া কালী।
মন্দির প্রাঙ্গণ বা অঞ্চলটি ভারী সুন্দর। বিশাল বিশাল গাছগাছালিতে ছাওয়া। ব্রহ্মশিলার ওপর রুপোর গোল গোল চোখ, নাকে সোনার নথ, সোনার জিভ। বেদির ওপর কাঁসার থালায় মায়ের চরণপদ্ম। মায়ের উদ্দেশে নিত্য নিবেদন করা হয় অন্নভোগ। সন্ধ্যারতির সময় দেওয়া হয় শীতলভোগ। ভক্তেরা একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মায়ের পেতে পারেন। ভোগের সময়টুকু ছাড়া সারাদিনই মন্দির খোলা। বন্ধ হয় রাত দশটায়। কালীপুজোর দিন ভক্তের ঢল নামে মন্দিরে। দশদিনের মেলাও বসে।
মানুষের বিশ্বাস মা খুবই জাগ্রত। একবার প্রচণ্ড ঝড়জলের এক রাত। এক দম্পতি ফিরছিলেন। তাঁরা কারওর বাড়ি ভেবে মন্দিরের দরজায় করাঘাত করেন। মন্দিরের দরজা খুলে যায়। সেই দম্পতিকে দেওয়া হল শুকনো জামাকাপড়। হল রাতের খাওয়ার ব্যবস্থাও। ক্লান্ত দম্পতি ঘুমিয়ে পড়লেন। ভোরবেলা ঘুম ভেঙে দেখেন তাঁরা ছিলেন কারওর বাড়িতে নয়, মায়ের মন্দিরে।

আরও পড়ুন:  ষাটের দশকে প্রেমের চিঠি চালাচালি হত ঘুড়িতে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline