fbpx

ত্রিবেণীর ডাকাত কালী মন্দিরে রামপ্রসাদকে ডাকাতেরা ধরে এনেছিল বলি দেবে বলে

ত্রিবেণীর ডাকাত কালী মন্দিরে রামপ্রসাদকে ডাকাতেরা ধরে এনেছিল বলি দেবে বলে

ত্রিবেণীর ডাকাত কালী মন্দিরে রামপ্রসাদকে ডাকাতেরা ধরে এনেছিল বলি দেবে বলে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রিবেণীর ডাকাত কালীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার রঘু ডাকাতের নাম। সেসব কথা ২০০ বছরেরও অধিক পুরনো। রঘু ডাকাতের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিবেণীর বাসুদেবপুরের ডাকাত কালী মন্দিরের পরিচিতি আছে বেশ। সাতটি গ্রাম নিয়ে সপ্তগ্রাম। ওই সাতটির একটি বাসুদেবপুর। ত্রিবেণী ঘাট থেকে কিলোমিটার খানেকের মধ্যে এই ডাকাত কালী মন্দির। বাসুদেবপুরে ছিল দুই কুখ্যাত ডাকাত রঘু আর বুধো। অনেকে এদের সঙ্গে বিশে ডাকাতের নামও বলে। যাইহোক, বাংলা ডাকাতদের মধ্যে এদের নামে মানুষ ভয় পেত। মন্দিরের পিছনেই পুকুর। এই পুকুরে স্নান সেরে মায়ের পুজো করে নরবলি দিয়ে ডাকাতেরা দলবেঁধে যেত ডাকাতি করতে। যেখানে নাকি ডাকাতরা স্নান সেরে পুজো দিত বলে শোনা যায়। ওদের হা রে হা রে হা রে ডাক শুনে মানুষের পিলে চমকে উঠত। বাচ্চারা মায়ের কোলে ভয়ে মুখ লুকাত।
জানা যায়, ৫০-৬০ বছর আগেও এইসব জায়গা ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা। আশপাশে মানুষজনের বসতিও ছিল না বললেই চলে। সকালবেলাতেও এই অঞ্চলের ছায়া মাড়াতেও ভয় পেত মানুষ। এখানে আসা ছিল দুঃস্বপ্ন। এই ডাকাত কালী মন্দিরে দেওয়া হত নরবলি। শোনা যায়, স্থানীয় সপ্তগ্রাম বন্দরে যাত্রী এবং সওদাগরেরা আসতেন। তাদের সমস্ত ধনসম্পদ লুঠ করত ডাকাতেরা। ডাকাতির কিছুটা অংশ বিলিয়ে দিত গরিব মানুষদের মধ্যে। কিংবদন্তি আছে, ডাকাতেরা বলি দেওয়ার উদ্দেশে সাধক রামপ্রাসাদকে ধরে আনে। রামপ্রসাদ বলেন, “বলি হওয়ার আগে মাকে গান শোনাতে চাই।” রামপ্রসাদের গান শেষ হওয়ার পর ডাকাত সর্দার বলে, “ঠাকুর আপনি আরও একটা গান ধরুন। রামপ্রসাদ গান শেষ করে সর্দার-সহ পুরো ডাকাতদলটি ঘুমোচ্ছে। তাদের ঘুম ভাঙতে সর্দার লুটিয়ে পড়ে রামপ্রসাদের পায়ে। সবাই ভক্ত হয়ে ওঠে রামপ্রসাদের! এমন বহু কাহিনি ছড়িয়ে আছে এই ডাকাত কালী মন্দির ঘিরে!
এখানে মায়ের হাতে খড়্গর বদলে আছে তরবারি। মন্দিরে প্রচলিত আছে অমাবস্যায় ছাগবলি দেওয়ার রীতি। বিশেষ বিশেষ পুজোর দিনে কালী মায়ের ভোগে দেওয়া হয় ল্যাটামাছ পোড়া। কার্তিকের দীপান্বিতা কালীপুজো, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষে অন্নকূট হল মন্দিরের প্রধান উৎসব। এইসব পুজোর দিনে হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে আসেন, মায়ের পুজো দেন। শোনা যায়, এখানকার মা খুবই জাগ্রত। মন দিয়ে ডাকলে মা ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।

 

ছবি: গুগুল
আরও পড়ুন:    প্রাচীন শৈবতীর্থ অমরকন্টকের  জলেশ্বর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline