fbpx

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালির কাছে আজও বড়ই প্রিয়

সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১২৭ জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য

 

 

শ্যামল কর

ভাগলপুরের নামকরা বাঙালি আইনজীবী উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় তিনি তাঁর পেশা ত্যাগ করে সাহিত্যসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। প্রকাশ করেছিলেন বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ‘বিচিত্রা’। পেয়েছিলেন ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’সহ আরও নানা পুরস্কার। আর তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন দুই সাহিত্যিককে আবিষ্কার করে। তাঁদের লেখা ‘বিচিত্রা’য় প্রথম প্রকাশ করে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের একজন মানিক বন্দোপাধ্যায়, অন্যজন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। বিভূতিভূষণের লেখা প্রথম উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায়।
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪-এর ১২ সেপ্টেম্বর, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার কাঁচড়াপাড়ার কাছে ঘোষপাড়া সুরাতিপুর গ্রামে মামার বাড়িতে। পৈতৃক বাড়ি ওই জেলারই বনগ্রামের বারাকপুরে। পিতা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, পেশা পৌরহিত্য ও কবিরাজি, তাঁর পান্ডিত্য এবং কথকথার জন্য তিনি শাস্ত্রী উপাধি পেয়েছিলেন। বিভূতিভূষণের মায়ের নাম মৃণালিণী দেবী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে বিভূতিভূষণ ছিলেন সবার বড়। কৈশোর ও যৌবন কেটেছে দরিদ্রতার মধ্যে। বাবার কাছেই শুরু হয় বিভূতিভূষণের পড়াশোনা। গ্রামের পাঠশালার পাঠ শেষ করে ভর্তি হয়েছিলেন বনগ্রাম উচ্চ ইংরাজি বিদ্যালয়ে। মেধাবী ছাত্র হিসাবে তিনি অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পান। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা যান। এই মৃত্যু বিভূতিভূষণের মনে গভীর ছাপ ফেলে। কারণ, লেখাপড়া থেকে আদর-আব্দার, সবটাই পূরণ করতেন বাবা। কিন্তু মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মাঝেও তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যান। সহায়তা করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক চারুবাবু৷ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন একদিন তাঁর এই ছাত্র সফল হবেই। চারুবাবুর সুপারিশে বিভুতিভূষণের আহার ও থাকার ব্যবস্থা হয়, ডাক্তার বিধুভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ি, তাঁর ছেলে ও মেয়েকে পড়ানোর বিনিময়ে। টিউশন করা তার সঙ্গে নিজের পড়া সেরে বিভুতিভূষণ ফার্স্ট ডিভিশনে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন। তারপর ভর্তি হন রিপন কলেজে (বর্তমানের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ)। সেখান থেকে ডিস্টিংশন নিয়ে বিএ পাশ করার পর মাস্টার্স ও আইন পড়ার জন্য ভর্তি হলেও, মাঝপথে পড়া ছেড়ে দিতে হয় আর্থিক কারণে।রোজগারের জন্য তিনি চলে যান হুগলির জাঙ্গিপাড়ার দ্বারকানাথ হাইস্কুলে শিক্ষকতা জন্য। গোরক্ষণী সভার প্রচারক হিসাবে তিনি বাংলা, ত্রিপুরা,আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে নানা ধরনের মানুষ ও প্রকৃতির সন্ধান পেয়েছিলেন। এর পরে খেলাৎচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে সেক্রেটারি ও গৃহশিক্ষকের কাজ করেছেন এবং ভাগলপুর এস্টেটের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে করেন। কিছুদিন ধর্মতলার খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং সবশেষে যোগ দেন গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউট স্কুলে। জাঙ্গিপাড়া স্কুলে পড়ানোর সময় বিভুতিভূষণের বিবাহ হয় গৌরীদেবীর সঙ্গে। একবছর পর গৌরীদেবীর অকাল মৃত্যুর শোক ভুলতে বেশ কিছুকাল বিভুতিভূষণ প্রায় সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করেছিলেন। পরিবারের লোকেরা তাই দেখে পরে তাঁর সঙ্গে রমাদেবীর বিয়ে দেন। তাঁদের এক পুত্র সন্তান হয়। ১৯৫০-এর ১ নভেম্বর ঘাটশিলায় অমর কথাশিল্পীর মৃত্যু হয় যে বাড়িতে, তার নাম তিনি রেখেছিলেন প্রথম স্ত্রী গৌরীদেবীর নামে ‘গৌরীকুঞ্জ’।বাড়ির সামনের রাস্তাটা পরিচিত ‘অপুর পথ’ নামে।
মাত্র ৫৬ বছরের জীবনে বিভুতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম বিপুল। নিভৃতচারী এই কথাসাহিত্যিকের রচনায় পল্লিজীবন, নৈসর্গিক সৌন্দর্য, মানবজীবনের অন্তর্লিন সত্তা ফুটে উঠেছে, উন্মোচিত হয়েছে সাধারণ মানুষ, নিম্নবিত্ত বাঙালির জীবনচিত্র, সমকালীন আর্থসামাজিক বাস্তবতা। একইসঙ্গে লিখেছেন অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি। যে দেশ তিনি কখনও চোখে দেখেননি, সেই আফ্রিকার জঙ্গলে বাঙালি অভিযাত্রীর দুঃসাহসিক অভিযানের বর্ণনা ফুটিয়ে তুলেছেন নিখুঁতভাবে।

আরও পড়ুন:  শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে গতকাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline