fbpx

অমানবিক, ভীষণই অমানবিক

অমানবিক, ভীষণই অমানবিক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা দেখল সারা দেশ, সারা বিশ্ব। ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের সাইলেন্ট ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক এলাকায়। একটি  ক্ষুধার্ত অন্তঃসত্ত্বা বুনোহাতি চলে আসে লোকালয়ে। খাবারের সন্ধানে হাতিটি গ্রাম এলে গ্রামবাসীরা তাকে বাজি ভর্তি একটা আনারস খেতে দেয়। হাতিটি পরম বিশ্বাসে সেটি খেয়েও নেয়। খাওয়া মাত্র বাজিগুলো তার মুখে ফাটতে থাকে। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে হাতিটির শুঁড়, মুখ। মুখ এতটাই রক্তাক্ত এবং ক্ষত হয় যে হাতিটি কিছু খেতে পারে না।
হাতিটি বুঝতে পারে মৃত্যু তার আসন্ন। যন্ত্রণা আর ক্ষত নিয়ে হাতিটি ছুটে বেড়ায় সারা গ্রাম। মানুষের কাছ থেকে আঘাত পেয়েও একটিও গ্রামবাসীকে আঘাত করেনি হাতিটি। ভাঙেনি কোনও ঘর। যন্ত্রণা জুড়োতে এবং তার গর্ভস্থ সন্তানকে বাঁচাতে এবং কষ্ট না-দিতে নেমে পড়ে নদীতে। মাঝ নদীতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। সেইসময় হাতিটিকে শুশ্রূষা করতে তীরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। না, হাতিটি আর বিশ্বাস করেনি মানুষকে। সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে মাঝ নদীতে। তারপর দুটো কুনকি হাতি দিয়ে তীরে নিয়ে আসা হয়। ততক্ষণে সব শেষ।
পরে হাতিটির ময়নাতদন্ত করে জানা যায়, হাতিটি ছিল ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাই ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় হাতিটি সন্তানের কথাই ভেবে জলে নেমেছিল। মাতৃত্বের এক বিরল দৃষ্টান্ত রেখে গেল মানুষের কাছে। হাতিটি মাঝ নদীতে দাঁড়িয়ে ছিল তার কারণ ক্ষত এবং রক্তাক্ত জায়গায় যাতে কোনওরকম পোকামাকড় না-বসে। হাতিটি বুঝতে পারে সে না-বাঁচলে তাঁর গর্ভস্থ সন্তানও বাঁচবে না। তাই যতক্ষণ প্রাণ ছিল হাতিটি নদীর জলের মধ্যেই ছিল। না, পারল না। তার লড়াই থেমে গেল। সন্তানকে সে পৃথিবীর আলো দেখতে পারল না।

কার্টুন: সেন্টু

 

আরও পড়ুন:  জনসচেতনতা বাড়াতে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

You're currently offline