শ্রাবণে শিবের মাথায় জল ঢালা শুরু হল কেন?

 

শান্তা শিকদার

এই শ্রাবণেই নাকি সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা বিষ বা হলাহল পান করে শিব হয়েছিলেন নীলকণ্ঠ৷ সেই বিষ পানের জন্য তাঁর কণ্ঠ নীলবর্ণ হয়ে যায়৷ তাই শিব বা মহাদেবের মাথায় জল এবং দুধ ঢেলে পুজো করা হয় ৷ সারা শ্রাবণ মাসই চলে এই আচার পালন৷ তবে যেহেতু সোমবার শিবের জন্মবার তাই সপ্তাহের এই দিনই বিশেষ পুজো হয়। শ্রাবণ মাসে যে ক’টি সোমবার পড়ে সেই ক’টি দিনই পুজোধূমধাম করেই। তবে অনেকেই সারা শ্রাবণ মাসেই শিবের বিশেষ পুজো করেন।
শ্রাবণ মাস শুধুমাত্র বাঙালির কাছে নয়, সমগ্র ভারতবাসীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসেই মানুষ শিবের বিশেষ আরাধনা করেন। তাঁর মাথায় জল এবং দুধ ঢেলে তাঁকে তুষ্ট রাখেন।
মানুষের বিশ্বাস, এই শ্রাবণ মাস নাকি দেবাদিদেব মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় এক মাস। শিব এই মাসেই পার্বতীকে নিয়ে মর্তে নেমে এসে পৃথিবী ভ্রমণ করেন ও ভক্তদের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে আর্শীবাদ করেন। আর তাই শ্রাবণের প্রতি সোমবার শিবভক্তেরা তাঁদের প্রিয় দেবতার মাথায় জল ঢালেন। তাঁর পূজা করেন। মানুষের বিশ্বাস, এতে জীবনের নানা সমস্যার সমাধান করবেন মহাদেব। বলা হয়, শ্রাবণেই পার্বতীকে বিয়ে করেন শিব। তাই বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের তাঁর ভক্তেরা শিবের মাথায় জল ঢালেন। অনেকে বিয়ের আগে জল সইতে যাওয়া নদীতে। জল এনে মাথায় ঢালা।
প্রতি সোমবার না-খেয়ে, স্নান করে, কাচা কাপড়ে মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে হয়। পুজোর সময় নিজের মনকে শান্ত এবং দেবতার প্রতি একাগ্র রাখা খুব জরুরি।
মহাদেবকে পুজোয় আতপ চাল দেওয়া হয়। মনে করা হয়, আতপ চাল দিলে আর্থিক সমস্যা কমে এবং ধনবৃদ্ধি ঘটে।
এমনিতেই মহাদেবের পুজোয় বেলপাতা, আকন্দ ফুল এবং ধুতরা ফুল দিতে হয়। এসময়ও তার অন্যথা হয় না। দুধ দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানো হয়।
শিবের আর এক নাম রুদ্র। তাঁর জন্যই বৃষ্টি। পাহাড়ের গায়ে বৃষ্টির জল নেমে আসে নীচে। শিব বা মহাদেবই বৃষ্টি নিয়ে আসেন মর্তে। একবা অনাবৃষ্টির কারণে মনে করেন গ্রামবাসীরা শিব কোনও কারণে রুষ্ট হয়েছেন। বৃষ্টির জল আর নামে না পাহাড়ের গা-বেয়ে নীচে। তখন সবাই মিলে ঘড়া ঘড়া জল এনে ঢালেন শিবের মাথায়। তারপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। পাহাড়ের গা-বেয়ে নামে জলের স্রোত। সেবার খুব ভাল ফসল হয়। সেইথেকেই প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল ঢালার শুরু।

ছবি: গুগুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *