ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক পদক, পরমবীর চক্রের নকশা করেছেন এই বিদেশিনী

 

শান্তা শিকদার

মাত্র ষোলো বছর বয়সে ইভটির সঙ্গে পরিচয় এক ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার। ভালবাসার এক সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওঁদের ভিতর। কিন্তু মেয়েটির বয়স এবং সংস্কৃতির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। সেই কারণে ইভটির বাবা-মা রাজি হলেন না ওঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে। কয়েকবছর পরে ইভটি মুম্বাই চলে এলেন। এবং নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করলেন। একটু খোঁজ নিলে এমন জীবনের গল্প বহু খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু ইভটির গল্প যে একটু ভিন্ন রকম।
ইভ ইয়ভোন ম্যাডে, ১৯৩১ সালে সুইজারল্যান্ডের এক সম্ভ্রান্ত হাঙ্গেরিয়ান পরিবারে জন্ম। বাবা, মা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
হঠাৎ পরিচয় এক মরাঠি সেনাপ্রধান বিক্রম খানোলকরের সঙ্গে। যিনি ওইসময় সেখানে সেনাবাহিনীর এক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।


বিয়ের পরে ইভ ইয়ভোন ম্যাডের নতুন নাম হয় সাবিত্রী বাই। পাশ্চাত্য জীবন থেকে এসে নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলেন নিজেকে। তাঁকে মুগ্ধ করেছিল ভারতীয় সংস্কৃতি। তিনি হিন্দু ধর্ম বিষয়ক বহু বই পড়েছিলেন। পড়েছিলেন ভারতের প্রাচীন ইতিহাস। হিন্দি, মরাঠি এবং সংস্কৃত ভাষায় ছিলেন তিনি সাবলীল। বলতেও পারতেন ওসব ভাষা। এবং নিজেকে দাবি করতেন একজন ভারতীয় হিসাবে। তাঁর আপত্তি ছিল বিদেশিনী কথাটিতে।দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধা দেখে মেজর হীরালাল অটল আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ভরসা করেছিলেন। দিয়েছিলেন ভারতীয় ইতিহাসের এক মহান সৃষ্টির কাজ।
পরমবীর চক্র ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক পদক। যুদ্ধক্ষেত্রে শক্রুর সম্মুখীন হয়ে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগ প্রদর্শনের স্বীকৃতস্বরূপ এই পদক দেওয়া হয়ে থাকে। আর এই পদকের নকশা তৈরি র পিছনে রয়েছেন এই মহিয়সী মহিলার চিন্তা ভাবনা। ভারতীয় সংস্কৃতিতে বজ্রের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, অসুর নিধনে মহর্ষি দধিচি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁর হাড় দিয়ে তৈরি করা হয় বজ্র । সাবিত্রী বাই এই পদক ডিজাইন করার জন্য সাহায্য নিয়েছিলেন হিন্দু পুরাণের।
ঘটনাচক্রে সাবিত্রী বাইয়ের নিকট আত্মীয় সোমনাথ শর্মা পরমবীর চক্রের প্রথম প্রাপক।
সাবিত্রী ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি উত্তর-ভারতের ফ্লাইং ক্লাবের সদস্য হিসেবে পাইলটের লাইসেন্স পেয়েছিলেন। তিনি রচনা করেছিলেন দু’টি সংস্কৃত গ্রন্থ।

ছবি: গুগুল

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *