লাউ কোফতা স্বাদে-গন্ধে লা-জবাব

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালি বাড়ির খাবার তালিকায় লাউয়ের জায়গা প্রায়দিনই একটু থাকে। কখনও মুগ বা মটর ডালে, কখনও-বা বড়ি দিয়ে ঘণ্ট বানিয়ে, আবার কখনও-বা চিংড়ি আর মাছের মাথা সহযোগে তরকারি রেঁধে তৃপ্তি করে দুপুরের খাওয়া। প্রথম পাতেও বাদ যায় না । লাউ দিয়ে সুক্ত এককথায় অসাধারণ।

তবে রাতের খাদ্য অর্থাৎ রুটি পরোটার সঙ্গে লাউ যেন কেমন একটু বেমানান। আজ রুটি, পরোটার সঙ্গে মানানসই লাউয়ের কোফতা বানানো শিখে রাখুন। দেখবেন অতিথি বা বাড়ির লোক এই লাউয়ের কোফতা আর পরোটা খেয়ে ধরতেই পারবেন না যে কী খেলেন!

লাউ কোফতা:

উপকরণ:

১। কচি লাউ ৫০০গ্রাম এবং একটি বড় আলু।
২। বেসন ২৫০ গ্রাম
৩। জিরেগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
৪। হলুদগুঁড়ো ২ টেবিল চামচ
৫। সাদা তেল পরিমাণমতো, সর্ষের তেল পরিমাণমতো।
৬। তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, গোটা জিরে, গোটা ধনে ১ টেবিল চামচ করে।
৭। নুন, ঘি, মিষ্টি পরিমাণমতো
৮। ঘি পরিমাণমতো
৯। শুকনো লঙ্কা কয়েকটি
১০। শুকনো লঙ্কাগুঁড়ো ১ চামচ
১১। দু’টি মাঝারি সাইজের পিঁয়াজ কুচোনো, একটি মাঝারি সাইজের পিঁয়াজ বাটা
১৩। আদা, রসুনবাটা ২ চামচ করে
১৪। একটি বড় সাইজের টোম্যাটো কুচোনো
১৫। ৪টি কাঁচালঙ্কা, কুচোনো ধনেপাতা এক চামচ।

প্রণালী:

প্রথমে লাউয়ের খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিন (অনেকে গ্রেট করে) সঙ্গে দু’টুকরো বড় আলুও সেদ্ধ করে নেবেন। এবার আধ ঘণ্টার মতো জল ঝরাতে দিন। জল নষ্ট না-করে একটি পাত্রে রাখুন। পরে ঝোলে দেবেন। স্বাদ হবে ভাল।

এই সময়ে ঝোলের স্বাদ আনার জন্য আপনি একটি মশলা বানিয়ে ফেলুন। ১ চামচ গোটা জিরে, শুকনো লঙ্কা দু’টি, ১ চামচ গোটা ধনে, দুটো এলাচ, একটুকরো দারচিনি, ৪টি লবঙ্গ শুকনো খোলায় ভেজে নিন। তার পরে সেগুলো মিহি করে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন।

এইবার দেখুন লাউ এবং আলু সেদ্ধ জল ঝরে শুকনো শুকনো হয়েছে কিনা। হলে একটি পাত্রে নিয়ে ওর মধ্যে অর্ধেক পিঁয়াজকুচি, ১ চামচ রসুন, আদাবাটা দিন। হলুদ -জিরেগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো ১ চা-চামচ করে, বেসন ৪ চামচ, কুচোনো ধনেপাতা, নুন এবং মিষ্টি পরিমাণমতো দিয়ে মিশ্রণটি ভালো করে মাখুন। জল একদম দেবেন না। কারণ, যতই জল ঝরিয়ে রাখুন, লাউ থেকে কিন্তু জল বেরোবেই।

এবার কড়াইয়ে বড়া ভাজার মত বেশি করে সাদা তেল ঢালুন। গরম হলে লাউয়ের মিশ্রণটি থেকে গোল গোল করে বড়ার আকারে তেলে দিন। মাঝারি আঁচে দু’পাশই ভাল করে ভাজুন।

ভাজা হয়ে গেলে তেল তুলে নিয়ে অন্য পাত্রে রাখুন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল দিন দুই চা-চামচ। এবার দিন সাদা জিরে ১ টেবিল চামচ, শুকনো লঙ্কা দু’টি, দারচিনি এক টুকরো, এলাচ তিনটি থেঁতো করে আর তেজপাতা, সুন্দর একটা গন্ধ বেরোলেই কুচনো বাকি পিঁয়াজ লাল করে ভেজে নিন। এবার একে একে ১ টেবিল চামচ আদাবাটা , রসুনবাটা, হলুদ, জিরে-ধনেবাটা দিয়ে নাড়তে থাকুন। মশলা মিশে গেলে কুচোনো টোম্যাটো এবং পিঁয়াজবাটা দিয়ে একটু জল দিন। ঢাকা দিয়ে কষতে থাকুন মশলা। ১৫ মিনিট পরে মশলা আর তেল আলাদা হচ্ছে মনে হলে তখন মিশ্রণটিতে জল দিন সঙ্গে নুন এবং মিষ্টি। ফের ঢাকা দিয়ে ফুটতে দিন কিছুক্ষণ। মাঝে ঢাকা খুলে দিন অর্ধেক ভাজা গুঁড়ো করে রাখা মশলা। একটু নেড়ে নিয়ে, দিয়ে দিন বড়াগুলো। ঢাকা দিন আবার। ফুটতে দিন পাঁচ মিনিট। সচেতন থাকবেন বড়া যাতে ভেঙে না-যায়।

গ্যাস বন্ধ করে ওপরে ছড়িয়ে দিন বাকি ভাজা মসলার গুঁড়ো এবং ঘি। ঢাকা দিয়ে রেখে দিন।
গরম গরম রুটি বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন। দুর্দান্ত লাগবে। স্বাদে ও গন্ধে একেবারে লা-জবাব!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *