ত্রাণ টুরিজম

নিজস্ব প্রতিনিধি: বেশ কিছুদিন ধরে নেট দুনিয়ায় একটা নতুন শব্দ ‘ত্রাণ টুরিজম’ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর তা নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছে বিস্তর। বিষয়টা ইয়াস-বিধ্বস্ত এলাকায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে যাঁরা এগিয়ে চলেছেন তাঁদের অনেকেই নাকি লকডাউন কালে সুযোগে বুঝে সুন্দরবন বেড়ানোর ফায়দা লুটচ্ছেন। বিষয়টির ওপর অনেকে মজা করে মন্তব্য লিখছেন, অনেকে মানুষের এই দুর্দিনে সেইসব মানুষের এমন বিকৃত চিন্তার কথা ভেবে ঘৃণায় ভরিয়ে দিচ্ছেন মন্তব্যে।

করোনার দাপটে যখন লকডাউন ক্রমশ বেড়ে চলেছে ঠিক সেই সময় ইয়াসের মতো বিধ্বংসী ঝড় ভেঙে দিয়েছে বহু ঘর, যা আজও সেভাবে পড়ে আছে। নোনা জলে সমুদ্র ভরিয়ে দিয়েছে চাষের জমি, তাঁরা জানেন না কবে সেই জমিতে আবার ফসল ফলবে। অপ্রতুল পানীয় জল, নোনা জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ।

ঝড় চলে যাওয়ার পর প্রায় একমাস হতে চলল । এখনও বহু জায়গায় মানুষ জলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। কিছু কিছু স্থানে সরকারি সাহায্য সেভাবে এখনও তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি। সেই অসহায় মানুষগুলোর কথা বোধহয় একটু ভাববার সময় এখন মানুষেরই। কেউ যদি লকডাউনের বন্দিদশার মুক্তি ঘুচিয়ে একটু খোলা আকাশের স্বাদ পেতে সেই অসহায় মানুষগুলোর কাছে যান, বাড়িয়ে দেন গরম ভাতের প্রয়োজনীয় চাল আর ডাল তবে ক্ষতি বোধ হয় কারওর কিছু হওয়ার নয়। একটু তলিয়ে ভাবলেই বোঝা যায় যে মানুষটি ফুর্তি করতে, নৌকাবিহার করে চাল, ডালের বস্তা আর খাবার জল নিয়ে চলেছেন তাঁরও কিন্তু প্রাণের মায়া আছে। যিশু সেনগুপ্তের নৌকা আটকে পড়ে ত্রাণ দিয়ে ফেরার সময়। ঘরবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেতে করোনা নামক মৃত্যুকে সে আলিঙ্গন করতে চলেছে এতটা ফুর্তিবাজ মানুষকে পাগল ছাড়া কিছু ভাবা কি চলে?

বিষয়টিকে একটু মানবিক দৃষ্টি কোণ থেকে যদি দেখা যায় তবে প্রথমেই যাঁরা যাচ্ছেন তাঁদের চলন-বলন নয়, যাঁদের জন্য যাচ্ছেন তাঁদের দিকটাই দেখা জরুরি। তাঁদের প্রয়োজনীয়তাটাই অনেকবেশি করে ভাববার সময় এখন। একটু খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানীয় জল আর মাথার ওপর ছাদ আজ তাঁদের খুব প্রয়োজন। মানুষের উচিত সেটাই ভাববার। ঘরে বসে থাকলেও ওই মানুষদের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া উচিত সাহায্যের হাত। নিজে না-পারলে যাঁরা এগিয়ে আসছেন তাঁদের সাহায্য নেওয়া দরকার। কারণ, আজ সকলের একটু একটু সাহায্যই ইয়াস-বিধ্বস্ত মানুষগুলোর মুখে একফোঁটা হাসি নিয়ে আসছে। ভাবতে পারছেন , না আমরা একা নই, পাশে আছেন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।

আর যাঁরা নিজের আরামদায়ক গৃহশয্য ছেড়ে একবেলার জন্যেও সেই মানুষগুলোর সাহচর্য দিয়ে এসেছেন তাঁদের জীবন হল-হকিকত দেখে এসেছেন তাঁদের সমালোচনা নয়, কুর্নিশ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *