ঝাঁঝে বাঙালির চোখে জল

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্ষের তেলের ঝাঁঝে চোখ-নাক দিয়ে যে জল বেরিয়ে আসে তা ভোজনরসিক বাঙালিমাত্রেই জানেন। কিন্তু সর্ষের তেলের ঝাঁঝে যে ছ্যাঁকা লাগতে পারে এই ধারণাটা বোধহয় জানা ছিল না। যা এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছে বাঙালি। একে তো অতিমারির আক্রমণে আমজনতার পকেট প্রায় গড়ের মাঠ। হবে নাই-বা কেন, ঘরে ঘরে ছাঁটাই, কর্মহীন হয়ে বসে আছেন মানুষ। অন্যদিকে করোনার আক্রমণে রোগীর চিকিৎসায় নিঃস্ব-রিক্ত পরিবার, আর ঠিক সেই সময় বাজারে কেজি প্রতি সরিষার তেলের দাম প্রায় দুশো ছুঁইছুঁই। নাভিশ্বাস উঠতে চলেছে নিম্ন, মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের। আর এ কথা তো বাচ্ছা ছেলেও জানে যে সর্ষের তেল বাঙালির রান্নাঘরে এক মূল্য উপকরণ। প্রায় সমস্ত রান্নাতেই এই তেলের মূল্যবান উপস্থিতি। সেখানে আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের সর্ষের তেলের দাম ১৭৫-১৯৫ টাকা। শুধু সর্ষের তেল নয়, দাম বেড়েছে রিফাইনড অয়েলেরও। লিটার প্রতি তার দাম ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা।

mustard oil price

বাজারে সর্ষের তেলের এমন ঊর্ধ্বমুখী দাম বৃদ্ধি দেখে অনেকেই বলছেন, সরকার দ্রুত ভোজ্যতেলের নির্দিষ্ট মূল্য বেঁধে না দিলে তা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাবে। আসলে বাজারদরের দিকে সরকারের নজরদারি সে অর্থে না-থাকায় সেই সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলি সীমাহীন মুনাফালাভের খেলায় নেমেছে। গত এক বছরে এই দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গতবছর কেন্দ্রীয় সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল সর্ষের তেলকে। আর তার পরেই দামের এই ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি।

mustard oil

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, অন্যদিকে ডাল আর তার সঙ্গে পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়ছে দিন প্রতিদিন। বিরোধীদের দাবি, মোদী জমানায় তেলে বিপুল শুল্ক বৃদ্ধিতে দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের।

শুল্ক বাড়িয়ে কেন্দ্র যে বিপুল আয় করেছে, তা স্পষ্ট হয়েছে পরোক্ষ কর আদায়ের সরকারি পরিসংখ্যানেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *