কোভিড আক্রান্তেরা এখন আর একা নন

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কেড়েছে হাজার হাজার প্রাণ। তিন প্রজন্মের মানুষ বাকশক্তি হারিয়ে দেখেছেন, দেখছেন করোনার দাপট। ভীত, আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন চার দেয়ালের মধ্যে। ঘরের চৌকাঠ পেরোতে ভয় পাচ্ছেন। কত সন্তান হয়েছে পিতৃ-মাতৃহীন, আশ্রয়হীন। কত পরিবার হারিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের। স্ত্রী হারিয়েছেন স্বামী, স্বামী হারিয়েছেন স্ত্রী। এমন এক ভাইরাস যার মৃতদেহ পর্যন্ত ছুঁতে পারেননি আপনজনেরা। দূরে থেকে বিদায় জানিয়েছেন প্রিয়জনদের। হাসপাতাল থেকে মর্গ, সেখান থেকে গণচিতায় আশ্রয় পেয়েছেন কতশত হতভাগ্য মানুষ। সব চেয়ে বেদনার বিষয়, এমন সময় মানুষ মানুষের সাহায্য পাননি, হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার সঙ্গী মেলেনি, মৃতদেহ নিয়ে ঘরে বসে কেটে গেছে অনেকেরেই। সারাদেশ জুড়ে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হয়েছে নিত্যদিন।

কোভিড আক্রান্তেরা এখন আর একা নন
সৌজন্যে: গুগুল


এই কঠিন পরিস্থিতিতে বহু যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মানুষের পাশে থাকতে। গ্রাম থেকে শহর জুড়ে যুবক-যুবতীরা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে চলেছেন মানুষকে সাহায্য করার। বাম সংগঠনের রেড ভলান্টিয়ার্স এই কঠিন পরিস্থিতিতে থেকেছেন, থাকছেন মানুষের পাশে। কখনও রোগী নিয়ে ছুটছেন হাসপাতাল, কখনও অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করে তা ঘাড়ে নিয়ে, বাইকের পিছনে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন, দিচ্ছেন কোভিড-আক্রান্তদের কাছে। পৌঁছে দিচ্ছে ওষুধ, খাবার। এমনকী মৃতদেহ দাহ করার কাজেও বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। ভিন্নধর্মীর শবদেহও কাঁধে চাপিয়ে যেতেও দেখা গেছে, দেখা যাচ্ছে। এখানে দলমত নির্বিশেষে মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, দিচ্ছেনও।


পাড়ার ছেলেরা, বন্ধুবান্ধবরা একজোট হয়ে এলাকার সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। দেখভাল করেছে তাঁদের পল্লিবাসীকে। অক্সিজেন হাব, সেফ হোম, স্বল্প মূল্যে হোম ডেলিভারি করে মানুষকে যতটুকু সাহায্য করা যায় সেই চেষ্টায় এগিয়ে এসেছে বাংলার ছেলে-মেয়েরা।

তবে বাংলার ইতিহাস ঘাঁটলে এই ইতিহাস নতুন নয়। কলকাতা যখন প্লেগ মহামারী রূপ নেয় তখন স্বামী বিবেকানন্দ সন্ন্যাসীদের নিয়ে মানুষের পাশে থেকেছেন। ভগিনী নিবেদিত নিজে রাস্তায় বেরিয়ে প্লেগ নিয়ে মানুষকে সচেতন করা, যুবক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, রোগীর যত্নে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *